Skip to main content

Posts

চিকেন পকোড়া, মিলনদার ক্যান্টিন এবং কাকা

মুরগী কি লুপ্তপ্রায় প্রজাতির ( endangered species) আওতায় পড়ে ? কলকাতা তথা বৃহত্তর কোলকাতার নানা ফাস্টফুডের দোকানে ‘চিকেন পকোড়া’ নামক বস্তুটা চেখে দেখলে কিন্তু সত্যিই এই সন্দেহটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে | বস্তুতঃ ‘চিকেন পকোড়া’ (চিকেন চপের কথা কিন্তু বলছি না) জিনিসটা খানিকটা ‘ভার্চুয়াল রিয়েলিটি’র মতো | মানে, আপনি ভাবছেন যে জিনিসটা আছে, কিন্তু আসলে নেই | মুরগী-ফুরগি কিচ্ছু না, স্রেফ বাঁধাকপি | ডবল এক্সেল বাঁধাকপির খাঁচার ভেতর মাইক্রোস্কোপিক মাংসের কণামাত্র, কিম্বা মাংস ছাড়ানো একটা হাড় | কখনো কখনো ওই কণাটাও খুঁজে পাওয়া যায়না, শুধু পাওয়া যায় চিকেন মশলার গন্ধ ! মুখের মধ্যে বস্তুটি পুরে আপনি চিকেনের সন্ধানে দাঁত চালাতে থাকেন, পাশ থেকে সেই মেহের আলী যেন বলে ওঠে, “সব ঝুঠ হ্যায়” ! আমাদের পাড়ার বেশ কয়েকটা দোকানে এই বিচ্ছিরি বস্তুটা পাওয়া যায় | সবকটা দোকান থেকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা সময়ে ওই জিনিটা চেখে দেখেছি | প্রতিবারে একই অভিজ্ঞতা | এক একটার পকোড়ার দাম আজকের দিনে কমবেশি পনেরো টাকা, অথচ খুব বেশি হলে তাতে থাকে দু’টাকার বাঁধাকপি, এক টাকার মাংস, পঞ্চাশ পয়সার তেল-মশলা, আর দোকানদ...

|| হরিপ্রসন্ন এবং আমি ||

  হরিপ্রসন্ন লোকটার সাথে আমার আলাপ আজ থেকে পাঁচ বছর আগে | সেসময় আমি স্কুল মাস্টারের চাকরি নিয়ে গোয়ালিয়র যাব , তারই আগে একদিন ডালহৌসি স্কোয়ারে গিয়েছি , এমন সময় লোকটার সাথে আমার আলাপ হল | তারিখটা ছিল ৬ই জুন , ২০১১ | এরপর তো আমি চললাম গোয়ালিয়র , আমার সাথে হরিপ্রসন্নও গেল সেখানে | আমারই কোয়ার্টারে তারও থাকবার ব্যবস্থা হল | তবে তার জন্য আলাদা বিছানা ছিল না. আমার ঘরে একটা বড় কাঠের টেবিল ছিল , তার উপরেই লম্বা হতো সে | অমন নির্বিবাদী , মু খচোরা কিন্তু ভয়ংকর কর্মঠ লোক আমি আর জীবনে দেখিনি , দিনে দশ-বারো ঘন্টাও কাজ করেও তার কোনো ক্লান্তি থাকত না , তবে মাঝেমাঝে একটু জ্বরজ্বর ভাব হত , গায়ে হাত দিয়ে দেখতাম যে বেশ গরম হয়ে গেছে , তখন একটু বিশ্রাম দেওয়া হত তাকে | একটু বিশ্রামের পরেই চাঙ্গা বোধ করত সে | গোয়ালীয়রে আমি প্রায় সাড়ে তিন বছর ছিলাম – ২০১১ সলের জুলাই মাস থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত | শহর থেকে দূরে ৩০০ ফুট পাহাড়ের উপর হাজার বছরের পুরনো কেল্লার মধ্যে অবস্থিত ১১৫ বছরের পুরনো স্কুল | সপ্তাহান্তে গাড়ি ভাড়া করে একবার নীচের শহরে যাওয়া ছাড়া মূল শহরজীবন থেকে এক প্রকার নির্বাসি...

জীবনবাবুর জীবনকথা

ঠিক ভোর পাঁচটায় , যখন আলো ফুটবে ফুটবে করে , তখন রোজ শুতে যান জীবনবাবু | ভদ্রলোকের নামটা অবশ্য এখন নিতান্তই "কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন" হয়ে দাঁড়িয়েছে , সেই বছর তিনেক আগেকার অ্যাক্সিডেন্টের পর থেকে ! তবে এখনো নাস্তিক হয়ে উঠতে পারেননি , তাই ' বৃদ্ধ মুনিঋষি ' কিম্বা Rum চন্দ্রের উপর ভরসা এখনো রয়েছে | নিশুতি রাতে অশ্বত্থ গাছের ওপরের ট্রি-হাউসে বসে জল দিয়ে গোটা এক খান পাঁইট মারেন জীবনবাবু | সঙ্গে নন-ফ্রায়েড ফিশ !! (অবশ্য আগুনের অভাবে সিগারেটের নেশাটা একরকম বাধ্য হয়েই ছাড়তে হয়েছে !) তারপর তৃপ্তির লম্বা ঢেঁকুড় তুলে বিছানায় লম্বা হন তিনি - নাক ডাকান পুরো দিন জুড়ে | তবে দিনের বেলায় মাঝেমাঝে কিরকম একটা ' মানুষে ' আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে যায় জীবনবাবুর | ধড়াস করে বুক কেঁপে যায় তাঁর ! কোনমতে "মরা মরা" জপে নিয়ে আবার চোখ বোজেন জীবনবাবু ! যদিও মানুষে বিশ্বাস করেন না , তবু ভর দুপুরে একা একা থাকতে একটু গা ছমছম করে বৈকি !! পুনশ্চঃ - গল্পটার নাম "ভূতের মুখে Rum নাম" দিলে মন্দ হতো না , তাই না ?? - অর্ঘ্য দাস via   টুকটাক লেখালেখি - Tuktak Lekhalekhi   , দ...

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা কতটা কার্যকরী ? আদৌ কি কার্যকরী ?

ঋণস্বীকার : ইন্টারনেট সার্ফ করতে করতে কোনো ভালো ফটো বা কোটেশন পেলে আমি সবসময়েই সেটা নিজের কম্পুটারে সেভ করে রাখি   |   কদিন আগে সেই ফটোর ফোল্ডার ঘাঁটতে গিয়ে দুটো ফটো আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে   |     ফটোগুলো কবে কোত্থেকে জোগাড়   করেছি আজ আর মনে নেই   |   এই লেখার মূল বক্তব্যটি ওই দুটি ফটোর আলোচ্য বস্তু   |   সুতরাং , এই লেখাটিকে আমার  ‘ মৌলিক রচনা ’ বলা যায় না , বরং এটা বলা যায় যে এই লেখাটা হল ওই দুটো ফটোর ভাব সম্প্রসারণ ! লেখার আইডিয়াটা ধার করা, সেই কাঠামোর উপর ভাষার জামা পরিয়ে আমি আপনাদের সামনে পরিবেশন করছি !! ফটোদুটো আপনারা যথাস্থানে দেখতে পাবেন | ভূমিকা: আজকাল নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে / দুর্ঘটনায় যখন কোনো জায়গা বিধ্বস্ত, তখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষজনের জন্য ঈশ্বরের (ভগবান / আল্লাহ/ গড) কাছে প্রার্থনার জন্য আবেদন জানিয়ে নানা রকম পোস্ট দেখা যায় |  এই রকম যেকোনো বিপর্যয়ে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের এগিয়ে আসা উচিত এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত | এই সকল বিপর্যয়ে আমাদের সকলেরই মন দ...

মতামতের ভিত্তিতে লেবেলিং

নিজস্ব মতামত দিলেই আজকাল মানুষজনকে লেবেলিং করা হচ্ছে | কদিন আগে গোমাংস বন্ধের বিরুদ্ধে একটা লেখা লিখেছিলাম , তখন কিছু লোক ‘ হিন্দু-বিরোধী ’ বলে গাল দিয়েছিল | আরেকদিন ফেসবুকে দেখি একটি মুসলিম অধ্যুষিত পেজে ইরফান আর ইউসূফ পাঠানের একসাথে একটা ছবি দিয়ে নিচে লেখা হয়েছে “ ভারত মাতার প্রকৃত বীর সন্তান ” ! আমি শুধু বললাম যে (১) ক্রিকেট একটি খেলা , একে দেশপ্রেমের সাথে গুলিয়ে ফেললে চলবে না (২) ক্রিকেটীয় দিক থেকেও বিচার করলেও তো এরা ‘ গ্রেট ’ নন ,   ফলে এরাই শুধুমাত্র ‘ ভারত মাতার বীর সন্তান ’ কেন ? এদের থেকে উঁচুদরের ভারতীয় ক্রিকেটাররা নন কেন ? তাঁরা তো ভারতকে আরো অনেক বেশি ম্যাচে জিতিয়েছেন !!.... ব্যাস , সঙ্গে সঙ্গে একজন অনেক জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিয়ে দিল , বলল আমি নাকি ‘ সাম্প্রদায়িক ’, ‘ মুসলিম-বিরোধী ’ ইত্যাদি ইত্যাদি ..... কদিন আগে রোহিথ ভেমুলা কান্ডে একজায়গায় বলার চেষ্টা করেছিলাম আফজল গুরুর মতো দেশের শত্রুর সমর্থনে কথা বলাটাও কোনো ভালো কাজ না , যদিও সেই সঙ্গে একটা তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ার জন্য দুঃখপ্রকাশও করেছিলাম , কিন্তু একদল আমাকে ' ভক্ত/ RSS- এর ধ্বজাধারী ' আরো কত কি ...

এই পথ যদি না শেষ হয়.............

গন্তব্য নাকি পথ - কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ? জীবনের ক্ষেত্রে কি উত্তর হবে জানি না ! তবে বেড়াতে গিয়ে অনেক সময়েই এমনটা হয়েছে যে গন্তব্যস্থলটা তেমন ভালো লাগেনি , কিন্ত যাওয়া-আসার সফরটুকু মন ভরিয়ে দিয়েছে | তখন সত্যি মনে হয়েছে "এই পথ যদি না শেষ হয়.............." ২০১১ সালের ডিসেম্বরে হায়দ্রাবাদ-আরাকু-ভাইজাগ বেড়াতে গিয়েছিলাম  |   সেই সফরেই ভাইজাগ থেকে আরাকু ভ্যালি গিয়েছিলাম বাসে করে  |   যাওয়ার পথে মেঘ আর কুয়াশায় মাখামাখি হয়ে থাকা রাস্তার দু ' পাশের পাহাড়ি উপত্যকা ও জঙ্গলের রূপ মনকে এক অন্য জগতে নিয়ে গিয়েছিল | আরাকু ভ্যালি আমার মোটেও ভালো লাগেনি , কিন্তু এই রাস্তাটুকু ছিল এক বিশাল বড় প্রাপ্তি | আরেকবারের ঘটনা | গিয়েছিলাম ওড়িশার সিমলিপাল জাতীয় উদ্যানে , জামশেদপুর থেকে সকাল চারটের সময় রওনা দিয়েছিলাম | ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাস | সেবারও কুয়াশামাখা পরিবেশ কি যে ভালো লেগেছিল তা ভাষায় বোঝাতে পারব না  |   মাঝেমাঝে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিতে হচ্ছিল , দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়াতে | কিন্তু কিসে কি !! গাড়ি দাঁড়ালেই তো আমাদের মজা বেশি | গাড়ি থেকে নেমে কুয়াশাকে যেন...

ফেসবুক আপডেট (পর্ব ৩) : নিজের ফটো (/স্টেটাস) নিজেই 'like' করা

[ আগের দু'টি পর্বের লিঙ্ক :  ফেসবুক আপডেট : পর্ব ১   এবং  ফেসবুক আপডেট : পর্ব ২   ] নিজের পোস্ট করা নিজের photo (/status) নিজেই like করার ঘটনাটি অনেকাংশেই ' আত্মলিঙ্গমপশ্চাৎপুরম '- এর সাথে তুলনীয় | অত্যন্ত অবাক হয়ে লক্ষ্য করি ফেসবুকে শতকরা ১০ জন লোকে এই কাজটি করে থাকেন |   এই কাজটি শুধুমাত্র ' আত্মপ্রচার ' নয় , রীতিমতো নির্বুদ্ধিতার পরিচায়কও বটে !! আরে পাগল (/পাগলি) , তুই যে নিজেকে খুব ভালোবাসিস সেটা আমাদের সবারই জানা , ফলে তোর্ photo ( বা লেখা / আঁকা) তোর্ নিজের যে ভালো লাগবে সেটাও আমরা জানি !! তাছাড়া , তোর নিজের পছন্দ হয়েছে বলেই তো তুই জিনিসটা ফেসবুকে পোস্ট করছিস , অপ ছন্দের জিনিস নিশ্চয়ই তুই পোস্ট করবি না |   তাই নয় কি ? পাঠকগণ , আপনারা কুকুরকে নিজের লেজ কামড়াতে দেখেছেন কখনো ? বা কোনো মানুষকে নিজের পিঠ নিজেই চাপড়ে দিতে ? ব্যাপারগুলো খানিকটা নিজের পোস্ট নিজে like করার সাথে তুলনীয় | সাথে ইন্টারনেট থেকে পাওয়া কয়েকটা প্রাসঙ্গিক ফটোও দিলাম , দেখতে ভুলবেন না যেন !!!             ...