Skip to main content

আমার ঈশ-প্রেম





একজন প্রকৃত বাঙালী কখনো নাস্তিক হতে পারে না | মানে তথাকথিত ঈশ্বরে বিশ্বাস হয়তো তার না থাকতে পারে, কিন্তু বাঙালীর হৃদয়ের খুব কাছে থাকা কিছু 'ঈশ' (ঈশ্বরের সমার্থক শব্দ)-কে সে ভক্তি, শ্রদ্ধা, প্রেম করবেই |

আমার কথাই ধরুন | বালিশ, ইলিশ আর মালিশ - এই তিন ছাড়া আমি বাঁচতে পারি না | মাথার বালিশ, পা রাখার বালিশ, পাশবালিশ - এই তিন আমার বিছানায় বিরাজমান | ঘুমের মধ্যে আমি গ্রহের মতো চরকি পাক লাগাতে থাকি, আর ওই বালিশগুলোও উপগ্রহের মতো আমার চারদিকে ঘুরতে থাকে |

মাঝেমাঝেই আমার শ্বাসকষ্ট ওঠে - বুকে নয়, পেটে | একটানা কয়েকদিন বৈচিত্রহীন খাবার খেলেই এই অবস্থা হয় | তখন অক্সিজেন হিসাবে ইলিশ ভাঁপা লাগে আমার | ইলিশভোজন আমার কাছে তীর্থযাত্রার পরিপূরক |

সেলুনে গিয়ে মাথা, পিঠ, হাত মালিশ করানো আমার প্রায় নেশার মতো হয়ে উঠেছে | সপ্তাহে অন্ততঃ দু'বার সেলুনে যাই মালিশ করানোর জন্য | শুধু এখানে নয়, ভারতবর্ষের নানা শহরে যখনই গিয়েছি, সেলুন খুঁজে নিয়ে সেখানে একবার 'হেড ম্যাসাজ' করিয়ে নিয়েছি |

পুনশ্চঃ - তবে পাঠক কোনো রকম তির্যক মন্তব্য করার আগেই জানিয়ে দিই - বিজ্ঞাপনবাজার পত্রিকায় যে ধরনের মালিশের বিজ্ঞাপন ভিতরের দিকের একটা গোটা পাতার অর্ধেকটা জুড়ে থাকে সেই ধরনের মালিশের কোনো অভিজ্ঞতা আমার নেই |
___________________________________________
© অর্ঘ্য দাস @ টুকটাক লেখালেখি, দুর্গানগর, 02-07-2016

Comments

Popular posts from this blog

চিকেন পকোড়া, মিলনদার ক্যান্টিন এবং কাকা

মুরগী কি লুপ্তপ্রায় প্রজাতির ( endangered species) আওতায় পড়ে ? কলকাতা তথা বৃহত্তর কোলকাতার নানা ফাস্টফুডের দোকানে ‘চিকেন পকোড়া’ নামক বস্তুটা চেখে দেখলে কিন্তু সত্যিই এই সন্দেহটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে | বস্তুতঃ ‘চিকেন পকোড়া’ (চিকেন চপের কথা কিন্তু বলছি না) জিনিসটা খানিকটা ‘ভার্চুয়াল রিয়েলিটি’র মতো | মানে, আপনি ভাবছেন যে জিনিসটা আছে, কিন্তু আসলে নেই | মুরগী-ফুরগি কিচ্ছু না, স্রেফ বাঁধাকপি | ডবল এক্সেল বাঁধাকপির খাঁচার ভেতর মাইক্রোস্কোপিক মাংসের কণামাত্র, কিম্বা মাংস ছাড়ানো একটা হাড় | কখনো কখনো ওই কণাটাও খুঁজে পাওয়া যায়না, শুধু পাওয়া যায় চিকেন মশলার গন্ধ ! মুখের মধ্যে বস্তুটি পুরে আপনি চিকেনের সন্ধানে দাঁত চালাতে থাকেন, পাশ থেকে সেই মেহের আলী যেন বলে ওঠে, “সব ঝুঠ হ্যায়” ! আমাদের পাড়ার বেশ কয়েকটা দোকানে এই বিচ্ছিরি বস্তুটা পাওয়া যায় | সবকটা দোকান থেকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা সময়ে ওই জিনিটা চেখে দেখেছি | প্রতিবারে একই অভিজ্ঞতা | এক একটার পকোড়ার দাম আজকের দিনে কমবেশি পনেরো টাকা, অথচ খুব বেশি হলে তাতে থাকে দু’টাকার বাঁধাকপি, এক টাকার মাংস, পঞ্চাশ পয়সার তেল-মশলা, আর দোকানদ...

কাজের মাসি

কাজের মাসি গতকাল আনন্দবাজারের রবিবাসরীয় তে একটা লেখা পড়লাম কাজের মাসিপিসি দের নিয়ে | এ প্রসঙ্গে নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল – তখন আমি যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে পড়ি আর থাকি গড়ফা নামক একটি জায়গায় মেসবাড়িতে | আমাদের মেসে রান্না, বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার ইত্যদি কাজ করত সবিতা দি | সদা হাস্যমুখ এই সবিতাদির বাড়ি ছিল নরেন্দ্রপুরে | মাঝেমাঝেই সবিতাদির নানা উদ্ভট কথাবার্তায় আমরা যারপরনাই পুলকিত হতাম | আমাদের মেসের মনোজিত আর সুদীপকে চিরকাল সবিতাদি ‘মনোদীপ ভাই’ আর ‘সুজিত ভাই’ বলেই ডেকে এসেছে, বহুবার সংশোধন করার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি | আমাকে বলত ‘মোটাভাই’ | স্কচ বাইট কে বলত ‘কসবা’ | মাছের ঝোল, মাংসের ঝোল কে বলত ‘মাছের তরকারী’ আর ‘মাংসের তরকারী’ | তখনো তৃনমূল ক্ষমতায় আসেনি, একদিন সবিতাদি এসে বলল, “ও ভাই জানো, আমাদের পাড়ায় কাল রাতে ঝামেলা হয়েচিল, এখন নতুন কি একটা পার্টি এসেচে না - ‘তিন আঙ্গুল’ না ‘দুই আঙ্গুল’ কি একটা নাম, তাদের সাথে ছি পি এমের | মারপিট ও হয়েচে |” আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম নতুন কোনো পার্টি সত্যিই বোধহয় এসেছে যাদের চিহ্ন ওই আঙ্গুলমার্কা ভিকট্রি সাইন ! মিনিট খানেক পর...

Pun-do-লিপি : সেলেব্রিটিগণ