Skip to main content

ইংরেজ আপেলওয়ালা - স্যার নিউটন


কাল বিকালে শিয়ালদা স্টেশনের বাইরে ফ্লাইওভারের পাশে দেখি এক জায়াগায় ভীষণ হট্টগোল | এগিয়ে গিয়ে ভিড় ঠেলে ঢুকে দেখি স্বয়ং নিউটন সাহেব আপেল বিক্রি করছেন | সেই সাদা পরচুলাওয়ালা বুদ্ধিদীপ্ত মুখ | আপেলের দাম একশ টাকা প্রতি কেজি | লাল টুসটুসে চমৎ
কার আপেল | অদ্ভুত ব্যাপার হল আপেল গুলো হাওয়ায় ভাসছে | মাধ্যাকর্ষণের একদম দফারফা !! সাহেব হাত বাড়িয়ে এক একটা আপেলকে বাতাস থেকে পাকড়াও করছেন আর থলেতে পুরছেন | এই ভোজবাজি দেখেই চারিদিকে ভিড় জমেছে |

এরই মধ্যে দেখি একদল স্কুলছাত্র জটলাটার বাইরে দাঁড়িয়ে উত্তেজিত ভাবে কি যেন আলোচনা করছে ! ভিড় কাটিয়ে চুপচাপ ওদের দিকে এগিয়ে গিয়ে শুনি ওরা বলাবলি করছে, "এইবেলা মালটাকে কিডন্যাপ করে বনগাঁ লোকালের লাস্ট কম্পার্টমেন্টে তুলে দরজার কাছে দাঁড় করিয়ে দিই | ভিড়ের চাপে হাঁসফাঁস করতে করতে নির্ঘাৎ অজ্ঞান হয়ে যাবে দমদমে ট্রেন থামার পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যেই | তখন বুঝবে ঠ্যালা ! এই আপেলের অধঃপতন নিয়ে যা এক খান গবেষণা করেছে যে সেসব পড়তে পড়তে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নাজেহাল অবস্থা হয়ে যাচ্ছে | "

আমি ভাবছি এগিয়ে গিয়ে সাহেবকে একটু সাবধান করে দেব | এমন সময় দেখি নিউটাউনের একটা বাস এসে দাঁড়াল | বাস থামিয়ে কন্ডাক্টর আর খালাসির "নিউটাউন নিউটাউন" বলে সে কি চিল-চিৎকার ! এদিকে ওই শুনে সাহেব পড়িমরি করে দোকান গুটিয়ে লাফিয়ে বাসে উঠে পড়লেন | সঙ্গে সঙ্গে বাস ছেড়ে দিল দুম করে !

বয়সের সাথে শ্রবণশক্তি সব মানুষেরই কমে যায় | সাহেব বোধহয় 'নিউটাউন'কে 'নিউটন' শুনে থাকবেন | এত হাঁকডাক শুনে বোধহয় ভেবেছেন যে তার জন্যই এই গাড়ির বন্দোবস্ত করা হয়েছে |

আপনারা যদি বিকাল পাঁচটা নাগাদ শিয়ালদার দিকে আসেন তাহলে একটু খেয়াল রাখবেন তো | যদি সাহেবকে দেখতে পান, দয়া করে তক্ষুনি আমায় একটা ফোন করবেন | আমার নম্বরটা আমার ফেসবুক প্রোফাইলের 'অ্যাবাউট'-এ গেলেই পাবেন |

_______________________________________________________
© অর্ঘ্য দাস @ টুকটাক লেখালেখি, দুর্গানগর, 03-05-2017

Comments

Popular posts from this blog

চিকেন পকোড়া, মিলনদার ক্যান্টিন এবং কাকা

মুরগী কি লুপ্তপ্রায় প্রজাতির ( endangered species) আওতায় পড়ে ? কলকাতা তথা বৃহত্তর কোলকাতার নানা ফাস্টফুডের দোকানে ‘চিকেন পকোড়া’ নামক বস্তুটা চেখে দেখলে কিন্তু সত্যিই এই সন্দেহটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে | বস্তুতঃ ‘চিকেন পকোড়া’ (চিকেন চপের কথা কিন্তু বলছি না) জিনিসটা খানিকটা ‘ভার্চুয়াল রিয়েলিটি’র মতো | মানে, আপনি ভাবছেন যে জিনিসটা আছে, কিন্তু আসলে নেই | মুরগী-ফুরগি কিচ্ছু না, স্রেফ বাঁধাকপি | ডবল এক্সেল বাঁধাকপির খাঁচার ভেতর মাইক্রোস্কোপিক মাংসের কণামাত্র, কিম্বা মাংস ছাড়ানো একটা হাড় | কখনো কখনো ওই কণাটাও খুঁজে পাওয়া যায়না, শুধু পাওয়া যায় চিকেন মশলার গন্ধ ! মুখের মধ্যে বস্তুটি পুরে আপনি চিকেনের সন্ধানে দাঁত চালাতে থাকেন, পাশ থেকে সেই মেহের আলী যেন বলে ওঠে, “সব ঝুঠ হ্যায়” ! আমাদের পাড়ার বেশ কয়েকটা দোকানে এই বিচ্ছিরি বস্তুটা পাওয়া যায় | সবকটা দোকান থেকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা সময়ে ওই জিনিটা চেখে দেখেছি | প্রতিবারে একই অভিজ্ঞতা | এক একটার পকোড়ার দাম আজকের দিনে কমবেশি পনেরো টাকা, অথচ খুব বেশি হলে তাতে থাকে দু’টাকার বাঁধাকপি, এক টাকার মাংস, পঞ্চাশ পয়সার তেল-মশলা, আর দোকানদ...

কাজের মাসি

কাজের মাসি গতকাল আনন্দবাজারের রবিবাসরীয় তে একটা লেখা পড়লাম কাজের মাসিপিসি দের নিয়ে | এ প্রসঙ্গে নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল – তখন আমি যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে পড়ি আর থাকি গড়ফা নামক একটি জায়গায় মেসবাড়িতে | আমাদের মেসে রান্না, বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার ইত্যদি কাজ করত সবিতা দি | সদা হাস্যমুখ এই সবিতাদির বাড়ি ছিল নরেন্দ্রপুরে | মাঝেমাঝেই সবিতাদির নানা উদ্ভট কথাবার্তায় আমরা যারপরনাই পুলকিত হতাম | আমাদের মেসের মনোজিত আর সুদীপকে চিরকাল সবিতাদি ‘মনোদীপ ভাই’ আর ‘সুজিত ভাই’ বলেই ডেকে এসেছে, বহুবার সংশোধন করার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি | আমাকে বলত ‘মোটাভাই’ | স্কচ বাইট কে বলত ‘কসবা’ | মাছের ঝোল, মাংসের ঝোল কে বলত ‘মাছের তরকারী’ আর ‘মাংসের তরকারী’ | তখনো তৃনমূল ক্ষমতায় আসেনি, একদিন সবিতাদি এসে বলল, “ও ভাই জানো, আমাদের পাড়ায় কাল রাতে ঝামেলা হয়েচিল, এখন নতুন কি একটা পার্টি এসেচে না - ‘তিন আঙ্গুল’ না ‘দুই আঙ্গুল’ কি একটা নাম, তাদের সাথে ছি পি এমের | মারপিট ও হয়েচে |” আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম নতুন কোনো পার্টি সত্যিই বোধহয় এসেছে যাদের চিহ্ন ওই আঙ্গুলমার্কা ভিকট্রি সাইন ! মিনিট খানেক পর...

Pun-do-লিপি : সেলেব্রিটিগণ