Skip to main content

কলেজ ক্যাম্পাসের বসন্ত



আমড়া মাখার টিফিন ব্রেক,
ক্লাসভাঙার পর ডিমটোস্ট-ঝালমুড়ি-এগরোলের গোধূলিবেলা,
তারপর ঝিলপাড়ের স্তিমিত বাতিতে,
গ্রীন জোনের ঘাসের কার্পেটে,
মাঠের ধারের বাঁধানো বেদীতে,
কিম্বা আরো অনেক গোপন জায়গায় -
দুটো মানুষ পাশাপাশি আসে |

কোনদিন বর্ষার ভেজা হাওয়ায়,
কোনদিন শীতের অন্ধকারে চাদরের আড়ালে,
কোনদিন হেমন্তের রুক্ষ সন্ধ্যায়,
কোনদিন স্নিগ্ধ দখিনা বাতাসে,
ঘনিষ্ঠ উত্তাপে দুটো মন আরো কাছাকাছি আসে |

অনেক চোখের জলে, অনেক কান্নাভেজা হাসিতে,
অনেক অভিমানে, অনেক প্রত্যাশায় গভীর হয় মুহূর্ত |
রাত বাড়ে, কথা কমে,
অনুভূতি বাড়ে, দূরত্ব কমে,
দিনের ভাসা ভাসা অনুভূতিগুলো ঘনীভূত হয় অন্ধকারের আবডালে |

মায়াবী সেই পরিবেশে,
দুটো মন এক হয়ে ঘর বাঁধে,
ঠিক যেখানে তারা বসে আছে সেখানে,
পুজোর ছুটির দিনকয়েকের অদেখা বাদে –
বছরভরই সেখানে থাকে সুখদুঃখের বসন্ত ||

© অর্ঘ্য দাস @ টুকটাক লেখালেখি, দুর্গানগর, 09-02-2017
(যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনের স্মৃতি থেকে লেখা) 


Comments

Popular posts from this blog

চিকেন পকোড়া, মিলনদার ক্যান্টিন এবং কাকা

মুরগী কি লুপ্তপ্রায় প্রজাতির ( endangered species) আওতায় পড়ে ? কলকাতা তথা বৃহত্তর কোলকাতার নানা ফাস্টফুডের দোকানে ‘চিকেন পকোড়া’ নামক বস্তুটা চেখে দেখলে কিন্তু সত্যিই এই সন্দেহটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে | বস্তুতঃ ‘চিকেন পকোড়া’ (চিকেন চপের কথা কিন্তু বলছি না) জিনিসটা খানিকটা ‘ভার্চুয়াল রিয়েলিটি’র মতো | মানে, আপনি ভাবছেন যে জিনিসটা আছে, কিন্তু আসলে নেই | মুরগী-ফুরগি কিচ্ছু না, স্রেফ বাঁধাকপি | ডবল এক্সেল বাঁধাকপির খাঁচার ভেতর মাইক্রোস্কোপিক মাংসের কণামাত্র, কিম্বা মাংস ছাড়ানো একটা হাড় | কখনো কখনো ওই কণাটাও খুঁজে পাওয়া যায়না, শুধু পাওয়া যায় চিকেন মশলার গন্ধ ! মুখের মধ্যে বস্তুটি পুরে আপনি চিকেনের সন্ধানে দাঁত চালাতে থাকেন, পাশ থেকে সেই মেহের আলী যেন বলে ওঠে, “সব ঝুঠ হ্যায়” ! আমাদের পাড়ার বেশ কয়েকটা দোকানে এই বিচ্ছিরি বস্তুটা পাওয়া যায় | সবকটা দোকান থেকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা সময়ে ওই জিনিটা চেখে দেখেছি | প্রতিবারে একই অভিজ্ঞতা | এক একটার পকোড়ার দাম আজকের দিনে কমবেশি পনেরো টাকা, অথচ খুব বেশি হলে তাতে থাকে দু’টাকার বাঁধাকপি, এক টাকার মাংস, পঞ্চাশ পয়সার তেল-মশলা, আর দোকানদ...

কাজের মাসি

কাজের মাসি গতকাল আনন্দবাজারের রবিবাসরীয় তে একটা লেখা পড়লাম কাজের মাসিপিসি দের নিয়ে | এ প্রসঙ্গে নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল – তখন আমি যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে পড়ি আর থাকি গড়ফা নামক একটি জায়গায় মেসবাড়িতে | আমাদের মেসে রান্না, বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার ইত্যদি কাজ করত সবিতা দি | সদা হাস্যমুখ এই সবিতাদির বাড়ি ছিল নরেন্দ্রপুরে | মাঝেমাঝেই সবিতাদির নানা উদ্ভট কথাবার্তায় আমরা যারপরনাই পুলকিত হতাম | আমাদের মেসের মনোজিত আর সুদীপকে চিরকাল সবিতাদি ‘মনোদীপ ভাই’ আর ‘সুজিত ভাই’ বলেই ডেকে এসেছে, বহুবার সংশোধন করার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি | আমাকে বলত ‘মোটাভাই’ | স্কচ বাইট কে বলত ‘কসবা’ | মাছের ঝোল, মাংসের ঝোল কে বলত ‘মাছের তরকারী’ আর ‘মাংসের তরকারী’ | তখনো তৃনমূল ক্ষমতায় আসেনি, একদিন সবিতাদি এসে বলল, “ও ভাই জানো, আমাদের পাড়ায় কাল রাতে ঝামেলা হয়েচিল, এখন নতুন কি একটা পার্টি এসেচে না - ‘তিন আঙ্গুল’ না ‘দুই আঙ্গুল’ কি একটা নাম, তাদের সাথে ছি পি এমের | মারপিট ও হয়েচে |” আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম নতুন কোনো পার্টি সত্যিই বোধহয় এসেছে যাদের চিহ্ন ওই আঙ্গুলমার্কা ভিকট্রি সাইন ! মিনিট খানেক পর...

Pun-do-লিপি : সেলেব্রিটিগণ