Skip to main content

বিবাহবাটির নিমন্ত্রণ


এক সপ্তাহে দুইদিন বিবাহবাটির নিমন্ত্রণ মন্দ নহে !! ozone-স্তর লইয়া চিন্তা থাকিলেও ওজন সংক্রান্ত চিন্তা আমার বিন্দুমাত্র নাই | সিক্স প্যাকটিকে যত্নের অ্যাডিপোস স্তর দিয়া ঢাকিয়া আমি পরম নিশ্চিন্ত | নিন্দুকে প্যাঁক দেয়, আমি উপেক্ষা করি |

আজ স্ন্যাকস হিসাবে 'চিকেন পকোড়া' পরিবেশিত হইতেছিল | অত্যন্ত উপাদেয় তাহা হয় নাই, তথাপি চুপচাপ বসিয়া থাকিয়া বায়ু সেবন অপেক্ষা পক্ষীমাংস ভক্ষণ করা অধিকতর শ্রেয় মনে হইয়াছিল | খাইবার টেবিলে লোকে সেলফি তুলিতেছিল, আমি তুলি নাই, সেল্ফিশের ন্যায় ফিশ ফ্রাই খাইতেছিলাম | যুবকগণ বিবাহবাটিতে আসিয়া প্রেমে পড়ে, আজ আমিও পড়িলাম | কোনো কন্যার নয়, একটি চতুষ্পদ প্রাণীর !!

নিরামিষ অতি উত্তম বস্তু | নিরামিষাশী জীবেদের আমি পরম স্নেহের চক্ষে দেখিয়া থাকি | উদাহরণ স্বরূপ পাঁঠা নামক প্রাণীটির কথা বলা যায় | তৃণ-পত্রাদি আহার করিয়া কী অপরূপ নধরখানি গড়িয়া তোলে ! মুখে দিবার সাথে সাথে মিলিয়া যায় | প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি !! আমার ন্যায় স্বল্পাহারী মানুষের নিকট বিবাহবাটিতে নিমন্ত্রণের মুখ্য আকর্ষণ এই চতুষ্পদ প্রানিটিই |

উদরপূর্তির পর মন-স্ফূর্তির পালা | মালাই চমচম আসিল |

হাত ধুইয়া নিচে আসিয়া দেখি কয়েকটি অষ্টাদশী ঘুরিয়া ফিরিতেছে | মধুরেণ সমাপয়েত |

বয়স হইতেছে, ভাবিলাম বদহজম না হইয়া যায় ! মাটন, মালাই চমচমের পর এক ঝাঁক অষ্টাদশী !! পকেটে একটি পুদিন হারা ছিল, সেটি গলাধঃকরণ করিলাম |

- অর্ঘ্য দাস @ টুকটাক লেখালেখি, দুর্গানগর, 28-11-2016


Comments

Popular posts from this blog

চিকেন পকোড়া, মিলনদার ক্যান্টিন এবং কাকা

মুরগী কি লুপ্তপ্রায় প্রজাতির ( endangered species) আওতায় পড়ে ? কলকাতা তথা বৃহত্তর কোলকাতার নানা ফাস্টফুডের দোকানে ‘চিকেন পকোড়া’ নামক বস্তুটা চেখে দেখলে কিন্তু সত্যিই এই সন্দেহটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে | বস্তুতঃ ‘চিকেন পকোড়া’ (চিকেন চপের কথা কিন্তু বলছি না) জিনিসটা খানিকটা ‘ভার্চুয়াল রিয়েলিটি’র মতো | মানে, আপনি ভাবছেন যে জিনিসটা আছে, কিন্তু আসলে নেই | মুরগী-ফুরগি কিচ্ছু না, স্রেফ বাঁধাকপি | ডবল এক্সেল বাঁধাকপির খাঁচার ভেতর মাইক্রোস্কোপিক মাংসের কণামাত্র, কিম্বা মাংস ছাড়ানো একটা হাড় | কখনো কখনো ওই কণাটাও খুঁজে পাওয়া যায়না, শুধু পাওয়া যায় চিকেন মশলার গন্ধ ! মুখের মধ্যে বস্তুটি পুরে আপনি চিকেনের সন্ধানে দাঁত চালাতে থাকেন, পাশ থেকে সেই মেহের আলী যেন বলে ওঠে, “সব ঝুঠ হ্যায়” ! আমাদের পাড়ার বেশ কয়েকটা দোকানে এই বিচ্ছিরি বস্তুটা পাওয়া যায় | সবকটা দোকান থেকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা সময়ে ওই জিনিটা চেখে দেখেছি | প্রতিবারে একই অভিজ্ঞতা | এক একটার পকোড়ার দাম আজকের দিনে কমবেশি পনেরো টাকা, অথচ খুব বেশি হলে তাতে থাকে দু’টাকার বাঁধাকপি, এক টাকার মাংস, পঞ্চাশ পয়সার তেল-মশলা, আর দোকানদ...

কাজের মাসি

কাজের মাসি গতকাল আনন্দবাজারের রবিবাসরীয় তে একটা লেখা পড়লাম কাজের মাসিপিসি দের নিয়ে | এ প্রসঙ্গে নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল – তখন আমি যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে পড়ি আর থাকি গড়ফা নামক একটি জায়গায় মেসবাড়িতে | আমাদের মেসে রান্না, বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার ইত্যদি কাজ করত সবিতা দি | সদা হাস্যমুখ এই সবিতাদির বাড়ি ছিল নরেন্দ্রপুরে | মাঝেমাঝেই সবিতাদির নানা উদ্ভট কথাবার্তায় আমরা যারপরনাই পুলকিত হতাম | আমাদের মেসের মনোজিত আর সুদীপকে চিরকাল সবিতাদি ‘মনোদীপ ভাই’ আর ‘সুজিত ভাই’ বলেই ডেকে এসেছে, বহুবার সংশোধন করার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি | আমাকে বলত ‘মোটাভাই’ | স্কচ বাইট কে বলত ‘কসবা’ | মাছের ঝোল, মাংসের ঝোল কে বলত ‘মাছের তরকারী’ আর ‘মাংসের তরকারী’ | তখনো তৃনমূল ক্ষমতায় আসেনি, একদিন সবিতাদি এসে বলল, “ও ভাই জানো, আমাদের পাড়ায় কাল রাতে ঝামেলা হয়েচিল, এখন নতুন কি একটা পার্টি এসেচে না - ‘তিন আঙ্গুল’ না ‘দুই আঙ্গুল’ কি একটা নাম, তাদের সাথে ছি পি এমের | মারপিট ও হয়েচে |” আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম নতুন কোনো পার্টি সত্যিই বোধহয় এসেছে যাদের চিহ্ন ওই আঙ্গুলমার্কা ভিকট্রি সাইন ! মিনিট খানেক পর...

Pun-do-লিপি : সেলেব্রিটিগণ