Skip to main content

পাতি



গত রোববার হাঁসের মাংস খেলাম - 'পাতি'হাঁসের | এ জিনিস দুরের এক গ্রাম থেকে আনানো, শহরের বাজারে এসব তথাকথিত 'পাতি' জিনিস আতি'পাতি' করে খুঁজলেও পাওয়া যায় না |

শেষ পাতে এক টুকরো 'পাতি'লেবু নুন মাখিয়ে খেলাম, হজমের জন্য | খাওয়াশেষে দু'পিস শসা আর তিন পিস নাশ'পাতি'র বিনাশ করলাম | "খালি পেটে জল, ভরা পেটে ফল" - অতি পুরনো এক বাংলা প্রবাদ |
রোববার দিনটা খাওয়াদাওয়ার পর আমি এই দেহখানা বিছানায় পাতি | তারপর ঘুমের সাথে বন্ধুত্ব পাতি | এই ঘুমের স্থায়িত্ব দুপুরের খাওয়ার সাথে সমানু'পাতি'ক - যতক্ষণ না পেটের ভিতরের সব জিনিস হজম হচ্ছে ততক্ষণ আমার নাক ডাকানো চলতে থাকে | একেবারে 'পাতি' হিসাব !! রোববার দুপুরের ঘুমাতে যাওয়ার আগে কোনদিনই আমি মোবাইলে অ্যালার্ম ফিট করি না, কারণ একটি স্বতঃস্ফূর্ত জিনিসকে যন্ত্র'পাতি' দিয়ে নিয়ন্ত্রিত করার পক্ষ'পাতি' আমি নই |

এই দিবানিদ্রার মাঝে কোনোরকম ঔত'পাতি'ক জিনিস আমার মোটেও পছন্দ নয় | তবু কোনো কোনোদিন জানলার বাইরে 'পাতি'কাকের বিচ্ছিরি ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায় | ইচ্ছা করে চা'পাতি' দিয়ে ওই কাকগুলোর মুন্ডু নামিয়ে দিতে !! কাকগুলোরও খেয়েদেয়ে কাজ নেই, ওই ভরদুপুরে কা-কা করতে হবে ! এতই যখন ফালতু টাইম আছে ওদের তখন 'পাতি'পুকুরে গিয়ে ডুব দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও তো করতে পারে ওরা !!


- অর্ঘ্য দাস, দুর্গানগর, 25-09-2016

Comments

Popular posts from this blog

চিকেন পকোড়া, মিলনদার ক্যান্টিন এবং কাকা

মুরগী কি লুপ্তপ্রায় প্রজাতির ( endangered species) আওতায় পড়ে ? কলকাতা তথা বৃহত্তর কোলকাতার নানা ফাস্টফুডের দোকানে ‘চিকেন পকোড়া’ নামক বস্তুটা চেখে দেখলে কিন্তু সত্যিই এই সন্দেহটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে | বস্তুতঃ ‘চিকেন পকোড়া’ (চিকেন চপের কথা কিন্তু বলছি না) জিনিসটা খানিকটা ‘ভার্চুয়াল রিয়েলিটি’র মতো | মানে, আপনি ভাবছেন যে জিনিসটা আছে, কিন্তু আসলে নেই | মুরগী-ফুরগি কিচ্ছু না, স্রেফ বাঁধাকপি | ডবল এক্সেল বাঁধাকপির খাঁচার ভেতর মাইক্রোস্কোপিক মাংসের কণামাত্র, কিম্বা মাংস ছাড়ানো একটা হাড় | কখনো কখনো ওই কণাটাও খুঁজে পাওয়া যায়না, শুধু পাওয়া যায় চিকেন মশলার গন্ধ ! মুখের মধ্যে বস্তুটি পুরে আপনি চিকেনের সন্ধানে দাঁত চালাতে থাকেন, পাশ থেকে সেই মেহের আলী যেন বলে ওঠে, “সব ঝুঠ হ্যায়” ! আমাদের পাড়ার বেশ কয়েকটা দোকানে এই বিচ্ছিরি বস্তুটা পাওয়া যায় | সবকটা দোকান থেকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা সময়ে ওই জিনিটা চেখে দেখেছি | প্রতিবারে একই অভিজ্ঞতা | এক একটার পকোড়ার দাম আজকের দিনে কমবেশি পনেরো টাকা, অথচ খুব বেশি হলে তাতে থাকে দু’টাকার বাঁধাকপি, এক টাকার মাংস, পঞ্চাশ পয়সার তেল-মশলা, আর দোকানদ...

কাজের মাসি

কাজের মাসি গতকাল আনন্দবাজারের রবিবাসরীয় তে একটা লেখা পড়লাম কাজের মাসিপিসি দের নিয়ে | এ প্রসঙ্গে নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল – তখন আমি যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে পড়ি আর থাকি গড়ফা নামক একটি জায়গায় মেসবাড়িতে | আমাদের মেসে রান্না, বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার ইত্যদি কাজ করত সবিতা দি | সদা হাস্যমুখ এই সবিতাদির বাড়ি ছিল নরেন্দ্রপুরে | মাঝেমাঝেই সবিতাদির নানা উদ্ভট কথাবার্তায় আমরা যারপরনাই পুলকিত হতাম | আমাদের মেসের মনোজিত আর সুদীপকে চিরকাল সবিতাদি ‘মনোদীপ ভাই’ আর ‘সুজিত ভাই’ বলেই ডেকে এসেছে, বহুবার সংশোধন করার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি | আমাকে বলত ‘মোটাভাই’ | স্কচ বাইট কে বলত ‘কসবা’ | মাছের ঝোল, মাংসের ঝোল কে বলত ‘মাছের তরকারী’ আর ‘মাংসের তরকারী’ | তখনো তৃনমূল ক্ষমতায় আসেনি, একদিন সবিতাদি এসে বলল, “ও ভাই জানো, আমাদের পাড়ায় কাল রাতে ঝামেলা হয়েচিল, এখন নতুন কি একটা পার্টি এসেচে না - ‘তিন আঙ্গুল’ না ‘দুই আঙ্গুল’ কি একটা নাম, তাদের সাথে ছি পি এমের | মারপিট ও হয়েচে |” আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম নতুন কোনো পার্টি সত্যিই বোধহয় এসেছে যাদের চিহ্ন ওই আঙ্গুলমার্কা ভিকট্রি সাইন ! মিনিট খানেক পর...

Pun-do-লিপি : সেলেব্রিটিগণ