Skip to main content

গাভাসকার


একবার অস্ট্রেলিয়ায় 'গাভাসকার' নামে একটা সিনেমা release করেছে । ভারতের সুনীল গাভাস্কারের কাছে সে খবর এসে পৌছেছে । ভদ্রলোক খুব উত্তেজিত, অন্যদেশে নিজের Biopic বেরিয়েছে, যা তা কথা নয় ! সিনেমাটা এদেশে রিলিজ না করাতে ওখান থেকে CD আনানো হলো । খুব আগ্রহভরে গাভাস্কার মশাই পরিবারের সকলকে নিয়ে সিনেমা দেখতে বসলেন ।

একি !! দু'ঘন্টার সিনেমা শেষ হয়ে গেল, কিন্তু সুনীল গাভাস্কারের জীবনকাহিনী দূরস্থান, তাঁর নামোল্লেখ পর্যন্ত নেই সিনেমায় ! নিতান্তই অস্ট্রেলিয়ার মানুষের সাধারণ জীবন নিয়ে একটা ছিমছাম সিনেমা ।

বিস্মিত, আশাহত, ক্রূদ্ধ সানিবাবু ফোন করলেন সিনেমার ডিরেক্টরকে ।

ষাটোর্ধ অজি পরিচালক অনেকক্ষণ রিং হয়ে যাওয়ার পর ফোনটা তুললেন । সানিবাবু নিজের পরিচয় দিয়ে ভদ্রভাবেই জিজ্ঞাসা করলেন, " কি মশাই, আমার নামে সিনেমা, অথচ কি আলফাল দেখিয়ে গেলেন সারাক্ষণ, আমাকে দেখানো তো দূরের কথা, আমার বিষয়ে একটি শব্দ পর্যন্ত খরচ করলেন না ? কি ব্যাপার বলুন তো ?"

উল্টো দিক থেকে মৃদু হাসির আওয়াজ । "মশাই, আপনাদের ইন্ডিয়াতে যখন 'border' সিনেমাটা বানালেন, তখন তাতে কি আমাদের অ্যালান বর্ডারকে নিয়ে একটি শব্দও আপনারা খরচ করেছিলেন ?" ?" জবাব মৃদুভাষী পরিচালকের !!

Gavaskar shocked, old man rocked !! 

(ছোট্টবেলায় শোনা একলাইনের জোক, একটু সাজিয়ে আপনাদের সামনে পরিবেশন করলাম)
(যাঁরা জানেন না তাদের জন্য : অ্যালান বর্ডার অস্ট্রেলিয়ার প্রবাদপ্রতিম ক্রিকেটার :https://en.wikipedia.org/wiki/Allan_Border ) 
_________________________________________________
© অর্ঘ্য দাস @ টুকটাক লেখালেখি, জামশেদপুর, ২৭-০৩-২০১৬

Comments

Popular posts from this blog

চিকেন পকোড়া, মিলনদার ক্যান্টিন এবং কাকা

মুরগী কি লুপ্তপ্রায় প্রজাতির ( endangered species) আওতায় পড়ে ? কলকাতা তথা বৃহত্তর কোলকাতার নানা ফাস্টফুডের দোকানে ‘চিকেন পকোড়া’ নামক বস্তুটা চেখে দেখলে কিন্তু সত্যিই এই সন্দেহটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে | বস্তুতঃ ‘চিকেন পকোড়া’ (চিকেন চপের কথা কিন্তু বলছি না) জিনিসটা খানিকটা ‘ভার্চুয়াল রিয়েলিটি’র মতো | মানে, আপনি ভাবছেন যে জিনিসটা আছে, কিন্তু আসলে নেই | মুরগী-ফুরগি কিচ্ছু না, স্রেফ বাঁধাকপি | ডবল এক্সেল বাঁধাকপির খাঁচার ভেতর মাইক্রোস্কোপিক মাংসের কণামাত্র, কিম্বা মাংস ছাড়ানো একটা হাড় | কখনো কখনো ওই কণাটাও খুঁজে পাওয়া যায়না, শুধু পাওয়া যায় চিকেন মশলার গন্ধ ! মুখের মধ্যে বস্তুটি পুরে আপনি চিকেনের সন্ধানে দাঁত চালাতে থাকেন, পাশ থেকে সেই মেহের আলী যেন বলে ওঠে, “সব ঝুঠ হ্যায়” ! আমাদের পাড়ার বেশ কয়েকটা দোকানে এই বিচ্ছিরি বস্তুটা পাওয়া যায় | সবকটা দোকান থেকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা সময়ে ওই জিনিটা চেখে দেখেছি | প্রতিবারে একই অভিজ্ঞতা | এক একটার পকোড়ার দাম আজকের দিনে কমবেশি পনেরো টাকা, অথচ খুব বেশি হলে তাতে থাকে দু’টাকার বাঁধাকপি, এক টাকার মাংস, পঞ্চাশ পয়সার তেল-মশলা, আর দোকানদ...

কাজের মাসি

কাজের মাসি গতকাল আনন্দবাজারের রবিবাসরীয় তে একটা লেখা পড়লাম কাজের মাসিপিসি দের নিয়ে | এ প্রসঙ্গে নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল – তখন আমি যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে পড়ি আর থাকি গড়ফা নামক একটি জায়গায় মেসবাড়িতে | আমাদের মেসে রান্না, বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার ইত্যদি কাজ করত সবিতা দি | সদা হাস্যমুখ এই সবিতাদির বাড়ি ছিল নরেন্দ্রপুরে | মাঝেমাঝেই সবিতাদির নানা উদ্ভট কথাবার্তায় আমরা যারপরনাই পুলকিত হতাম | আমাদের মেসের মনোজিত আর সুদীপকে চিরকাল সবিতাদি ‘মনোদীপ ভাই’ আর ‘সুজিত ভাই’ বলেই ডেকে এসেছে, বহুবার সংশোধন করার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি | আমাকে বলত ‘মোটাভাই’ | স্কচ বাইট কে বলত ‘কসবা’ | মাছের ঝোল, মাংসের ঝোল কে বলত ‘মাছের তরকারী’ আর ‘মাংসের তরকারী’ | তখনো তৃনমূল ক্ষমতায় আসেনি, একদিন সবিতাদি এসে বলল, “ও ভাই জানো, আমাদের পাড়ায় কাল রাতে ঝামেলা হয়েচিল, এখন নতুন কি একটা পার্টি এসেচে না - ‘তিন আঙ্গুল’ না ‘দুই আঙ্গুল’ কি একটা নাম, তাদের সাথে ছি পি এমের | মারপিট ও হয়েচে |” আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম নতুন কোনো পার্টি সত্যিই বোধহয় এসেছে যাদের চিহ্ন ওই আঙ্গুলমার্কা ভিকট্রি সাইন ! মিনিট খানেক পর...

Pun-do-লিপি : সেলেব্রিটিগণ